লকডাউনে গত দেড় বছরে অনেক 'আসল'-এর বিকল্প নিয়ে বেঁচে থাকতে শিখিয়েছে জীবন। কিন্তু, আজকের দিনটা ব্যতিক্রম নিঃসন্দেহে। কারণ, এ শুধু জীবন নয়, জামাই বাবা জীবন! আজ জামাই ষষ্ঠী! শুরুতে নাকি দিনটা ছিল সন্তানের মঙ্গল কামনায় ষষ্ঠী। তা বাঙালির জামাই প্রীতি সর্বজনবিদিত। তাই ষষ্ঠী হয়েছে জামাই ষষ্ঠী। সব কাজ ভুলে আম, লিচু নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়ে কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার দিন। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছরে সে সব স্বাদ খানিকটা ফিকে হয়েছে বইকি। প্রবাসে থাকা মেয়ে জামাইকে পাত পেড়ে খাওয়াবেন কীভাবে শ্বশুর শাশুড়ি? অগত্যা উপায় স্কাইপ কল। পরপর দু'বছরের লকডাউন কিন্তু জামাই ষষ্ঠীর সেলিব্রেশনে একেবারে ভিলেইনের চরিত্রে। পাশের পাড়ায় বিয়ে করা জামাইদেরও বাধ্যতামুলক জুম কলেই সারতে হচ্ছে উদযাপন। মুখে মাস্ক আর হাতে স্যানিটাইজার ঘষে ঘষে কি জামাই আদর হয়? তবে কিনা রাজ্য সরকারের বিগত কয়েক বছরের হাফ ছুটি এবার আপগ্রেডেড হয়েছে ফুল ছুটিতে। নিন্দুকেরা বলছেন, বঙ্গ জামাইদের নিয়ে ব্যঙ্গ করছে বাংলার সরকার! লকডাউনে কীসের সেলিব্রেশন? আহা! 'ভার্চুয়াল' শব্দটা কি ভুলেই গেলেন নাকি? ভার্চুয়াল ক্লাস, ভার্চুয়াল মিটিং, ভার্চুয়াল হিয়ারিং সব হল, জামাইদের জন্য ভার্চুয়াল সেলিব্রেশন হবে না কেন? তবে হ্যাঁ, দেখবেন, জামাইটা যেন ভার্চুয়াল না হয়!