২০২১ সালের পর ২০২৪। বাংলায় ফের আটকে গেল বিজেপির রথ। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথের মতো কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীরা। রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত আড়াই মাস লাগাতার বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের উপর রাজনৈতিক ভাবে চাপ তৈরি করেছিল পদ্মশিবির। এখানেই শেষ নয়, বাংলার শাসক দলকে ছায়াযুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে।
কিন্তু মঙ্গলবার অষ্টাদশ লোকসভার ভোট গণনায় বিজেপিকে যাবতীয় জবাব ফিরিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক যে ভাবে বিজেপিকে জবাব ফিরিয়ে ছিলেন আজ থেকে তিন বছর আগে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের বিরুদ্ধে মমতার তাস ছিল সেই উন্নয়ন। হাতিয়ার ছিল লক্ষ্মীভাণ্ডার থেকে কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্প।
কখনও ইডি, কখনও সিবিআই, আবার কখনও NIA। এর পাশাপাশি এই প্রচারে একাধিক বিজেপির নেতার কাছ থেকে তাঁকে শুনতে হয়েছে ব্যক্তিগত আক্রমণ। রাজনৈতিক মহলের দাবি, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে বিজেপির ফাঁদে পা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু এবার তাঁর ফাঁদে পা দিতে হয়েছে বিজেপিকে। তার উদাহরণ জলপাইগুড়ির বিজেপি নেত্রী লক্ষ্মীভাণ্ডার বন্ধ করার দাবি।
সেই ইস্যুকেই পরবর্তী সময়ে গোটা ভোট প্রচারে হাতিয়ার করেছিলেন অভিষেক। রাজনৈতিক মহলের দাবি, যার আগাগোড়া ফায়দা এই ভোটে তুলল তৃণমূল। কারণ, উন্নয়নের ইস্যুতে নারীদের আর্থিক সুরক্ষা প্রথম থেকে অগ্রাধিকার তৃণমূল সরকারের। রাজনৈতিক মহলের মতে, লক্ষ্মীরভাণ্ডার নিয়ে বিজেপির দাবিতে তা ধাক্কা খেয়েছিল। আর সেটাই মহিলা ভোট এবার আরও বাড়িয়ে নিতে সুবিধা করল তৃণমূলকে। তাই পাঁচ বছর আগে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বেশ কয়েকটি হারা আসন, এবার নিজেদের পালে টানতে পেরেছে বাংলার শাসক দল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ব্যক্তি আক্রমণ, রামকৃষ্ণ মিশনকে নিয়ে তোলা অভিযোগকে এবারের ভোট প্রচারে সুকৌশলে সামলেছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি যে আজ অনেক পরিণত, তা বারে বারে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তাই, বিজেপির ফাঁদে পা না দিয়ে, পদ্ম শিবিরকে এই রাজ্যে রুখতে বারবার প্রতিটি ভোট প্রচারে বলে গিয়েছেন বাংলার বিরুদ্ধে বঞ্চনার কথা। যা বাংলার মানুষকে এবারের ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রভাবিত করছে বলেও দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।
এবার ৪০০ পার। নরেন্দ্র মোদীর এই স্বপ্ন ফের ধাক্কা খেল বাংলাতেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশলের কাছে ফের হেরে গেলেন সুকান্ত-শুভেন্দুরা। মঙ্গলবারের বারবেলায় বাংলা ফের জানিয়ে দিল, এই রাজ্য তার নিজের মেয়েকেই চায়।