বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন। আর সেই পার্বণের শুরুটা বৈশাখের প্রথম দিনটা (Pohela Boishakh) দিয়ে। নতুন বছরের প্রথম দিন, পয়লা বৈশাখ (Bengali new year 2022)। দুই বাংলাজুড়েই থাকে উৎসবের আমেজ। বৈশাখের প্রথম দিনটা (Bengali new year 2022) যেন সদ্যজাত শিশুর মতো। একেবারে আনকোরা। দিনটাকে ঘিরে কত মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ভালবাসা। বাড়িতে নতুন সদস্য এলে তাকে ঘিরে যেমন থাকে আদর-আপ্যায়ন, কত, আয়োজন, নতুন বছরটাকে ঘিরেও তাই। শুভ দিন (Bengali new year wishes) ভেবে এই দিনটিতে পুজো-আচ্চারও রীতি রেওয়াজ রয়েছে কোনও কোনও ঘরে। দোকানে-বাজারে আবার এই দিন থেকে নতুন হালখাতায় (Haalkhata) নতুন হিসেব-নিকেশ শুরু। তাই সেখানেও সাজো সাজো রব।
আরও পড়ুন: এসে গেল নতুন বছর, তার আগে জেনে নিন 'হালখাতা'র ইতিহাস
বাংলাদেশের মতো এখন কলকাতাতেও বাংলা বছরের প্রথম দিনে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার, যা 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' (Happy Bengali New Year) নামে পরিচিত। ঘরে ঘরে এইদিন একটু ঘটা করে খাওয়া দাওয়া হবেই। সামর্থ্য অনুযায়ী আয়োজন ছোট-বড় হতে পারে, তবে এই দিনটাকে নিয়ে আন্তরিকতায় ঘাটতি থাকে না কারও।
এ তো গেল বাংলার (Happy Bengali New Year) উদযাপন। কিন্তু বাংলা ছাড়াও দেশের নানা প্রদেশেই এই সময়ে চলে নানা উৎসব।
পাঞ্জাবে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটিতে বৈশাখী (Baisakhi) উৎসব পালিত হয় ।
বৈশাখী উৎসবটি শিখদের নতুন বছর হিসেবে উদযাপিত হয়। পাঞ্জাব এবং উত্তর ভারতীয় অঞ্চলে এই সময় ফসল কাটার পর পরের বছরের জন্য বীজ বপন করা হয় তাই উৎসবটি ফলন উৎসব নামেও পরিচিত । এই উৎসবেও প্রার্থনা করা হয় গেলাভরা ফসলের জন্য।
আসামেরে নতুন বছরের সূচনার দিনটি রঙ্গোলি বিহু (Bihu 2022) বা বোহাগ বিহু নামে পরিচিত। আসামের ক্যালেন্ডার নির্মিত হয়েছে হিন্দু এবং বৌদ্ধ ক্যালেন্ডারের সংমিশ্রনে। বিহু উৎসবটি কৃষিকাজ বিশেষত ধান উৎপাদনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। রঙ্গোলি বিহু উৎসবটি এখানে মূলত ফলন উৎসব (Bihu 2022 Wishes) হিসেবেই পরিচিত । এই বিহুর দিন (Bohag Bihu 2022) মাংস, চিঁড়ে ও পিঠে জাতীয় খাবার তৈরি করা হয় বাড়িতে-বাড়িতে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাঁরা উৎসবে মেতে ওঠেন। চলে আলিঙ্গন, শুভেচ্ছা বিনিময়।
দক্ষিণ ভারতেও উৎসব হয় বছরের এই সময়ে। কেরল ও কর্ণাটকের কিছু অংশে বিশু উৎসব পালিত হয়। আতশবাজি, আলোর রোশনাইতে সেজে ওঠে সব বাড়ি। স্থানীয়ভাবে বিশ্বুপদাক্কম নামে পরিচিত এই উৎসব।