"এলন দারুণ কাজ করছে। আরও আগ্রাসী কাজ করতে হবে। দেশকে বাঁচাতে হবে। এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে, যা আগে কখনও হয়নি।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'আমেরিকান ড্রিমস' এখন বিশ্বরাজনীতিতে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। US-এইড ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৬০০ কর্মীকে ছাঁটাই করলেন ট্রাম্পের কো-প্রেসিডেন্ট এলন মাস্ক। প্রায় ৪০০০ কর্মীকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
Make America Great Again বা MAGA- এই স্বপ্নপূরণের জন্য় আগে দেশের রোগ নির্ধারণ প্রয়োজন। সেই রোগ নির্ধারণের দায়িত্ব পেয়েছেন এলন মাস্ক। তাঁর প্রশংসা করেও নতুন টার্গেট সেট করে দিলেন মিস্টার প্রেসিডেন্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ওয়াশিংটন ডিসি থেকে নিউইয়র্ক, আমেরিকায় একটি নতুন শব্দবন্ধনী এসেছে, 'মাস্কম্যানিয়া'। হোয়াইট হাউজে এলন মাস্ককে বলা হচ্ছে কো-প্রেসিডেন্ট। ভায়েস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের যা ক্ষমতা, মনে করা হচ্ছে, তার থেকে বেশি ক্ষমতা এলন মাস্কের। তিনি যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাতেই সিলমোহর পড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা আমেরিকার শীর্ষপদে ছিলেন, তাঁদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে 'মাস্কম্যানিয়া' সংক্রমণের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
US এইড-নিয়ে আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। অবৈধ অভিবাসন, বাড়তি শুল্কনীতি নিয়ে কোনও সমাধান হয়নি। বরং ট্রাম্প সরাসরি বলে দিয়েছেন, ভারত সবথেকে বেশি শুল্ক নেয়। এবার থেকে সেটা হবে না। ভারতকেও পণ্য আমদানী করতে সমান শুল্ক দিতে হবে। তবে বিতর্ক দানা বাধে US এইডের ফান্ড নিয়ে। এলন মাস্কের দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অফ গর্ভমেন্ট এফিসিয়েন্সি জানায়, লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতে আমেরিকা থেকে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফান্ডিং যায়। যা ভোট টানতে ব্য়বহার করা হয়। কোন দল ব্যবহার করেছে, তা কিন্তু তখন জানা যায়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে একধাপ এগিয়ে জানিয়ে দেন, তাঁর বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর কাছে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যায়। কিন্তু কেন এই টাকা আমেরিকা দেবে, তা বুঝতে পারছেন না। সর্বসমক্ষে জানিয়ে দেন ট্রাম্প।
ক্ষমতায় আসার আগেই US এইডের ফান্ডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় এসেই US এইডের সব ফান্ডিং বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। সূত্রের খবর, এবার US এইড দপ্তরে কমপক্ষে ১৬০০ জনকে বিতাড়িত করা হয়েছে। বিবিসি আমেরিকা জানিয়েছে, প্রায় ৪২০০ জনকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। আমেরিকায় US এইড ২০০০ কর্মী কাজ করেন। ৪০০ জনকে রেখে বাকিদের ছাঁটাই করল ট্রাম্প প্রশাসন। বলা যেতে পারে, ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসনের অন্য়তম বড় সিদ্ধান্ত।
US এইড নিয়ে কিন্তু ভারতীয় রাজনীতিতেও তুলকালাম। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ২০২৩-২৪-এর বার্ষিক রিপোর্ট শেয়ার করেছেন। তাঁর দাবি, এই দেশে US এইড সংক্রান্ত ৫৫৫টি প্রকল্প চালিয়েছে সরকার। ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে ভারত। গত অর্থবর্ষে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাতটি প্রকল্প চালিয়েছে ভারত সরকার। কৃষিক্ষেত্র, খাদ্য় নিরাপত্তা-সহ একাধিক প্রকল্পে এই টাকা ব্য়বহার করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা মন্তব্য় করেন বিজেপির আইটি সেলের অমিত মালব্য়। তিনি জানান, ২০১০-১১ অর্থবর্ষে এই US এইড প্রোগ্রাম এসেছিল। জর্জ সোরেস নিয়েও ফের আক্রমণ করে বিজেপি।